- এনিমেশন
- মে 21, 2019
- 4 mins read
এনিমেশনের ১২টি প্রিন্সিপালস
এনিমেটেড ভিডিও প্রাণবন্ত করে তুলুন এনিমেশনের প্রিন্সিপাল এপ্লাই করে
এনিমেশন এর প্রিন্সিপাল কি?
সব ধরণের এনিমেটেড ভিডিও ভালো লাগে না। ভালো না লাগার পিছনে গল্প যেরকম একটা কারণ হতে পারে তেমনি ভালো গল্পেও বোরিং এনিমেশন হতে পারে যদি কিনা এনিমেশনের প্রিন্সিপালস না মেনে এনিমেটেড ভিডিও কনটেন্ট বানানো হয়। এনিমেশনে ১২টি প্রিন্সিপালস এসেছে ডিজনির দুই এনিমেটর Ollie Johnston ও Frank Thomas এর The Illusion of Life: Disney Animation বইটি থেকে।
স্কোয়াস এন্ড স্ট্রেস
এনিমেশনে যেকোন একশন এর ওয়েট ও ভলিয়ম বোঝাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। স্কোয়াস ও স্ট্রেস প্রিন্সিপাল এর এপ্লাই থেকে অডিয়েন্স একশন এর ওয়েট ও ভলিয়ম সম্পর্কে ধারণা পায়।
স্পিড ও একশনের মোশন পাথ বোঝানোর একটা দারুন ওয়ে হচ্ছে স্কোয়াস এন্ড স্ট্রেস প্রিন্সিপাল এর ব্যাবহার করা।
স্টেজিং
এনিমেশনে একশনের এরেঞ্জমেন্ট ও প্লেসমেন্ট করাটাই হচ্ছে স্টেজিং প্রিন্সিপাল। স্টেজিং অডিয়েন্সকে সাহায্য করবে একটা সিনের কোন সময়ে কোন একশন ফোকাস করতে হবে সে বিষয়টি।
এন্টিসিপেশন
কোন মুভমেন্টের আগে এডিয়েন্সরা যদি এর একশন সম্পর্কে সঠিক অনুমান করতে পারে তাহলে বুঝতে হবে সঠিকভাবে এন্টিসিপেশন প্রিন্সিপাল এপ্লাই করা হয়েছে। এতে করে অডিয়েন্সের মনে বিশ্বাস তৈরি হয় একশনের মুভমেন্টটি নিয়ে।
স্ট্রেইট এহেড ও পোজ টু পোজ
স্ট্রেইট এহেড হচ্ছে যখন প্রতি ফ্রেম ধরে এনিমেশন করে যাওয়া আর পোজ টু পোজ হচ্ছে মূল পোজ ক্রিয়েট করে তার মধ্যকার ইন বিটুইন দিয়ে এনিমেশন করা। টুডি, মোশন গ্রাফিক্স, থ্রিডি সবক্ষেত্রেই এই প্রিন্সিপাল এপ্লাই করে এনিমেশন করা সম্ভব। একটা এনিমেশনের প্রজেক্টে দুটোর কম্বিনেশনেও এনিমেশন করা যেতে পারে।
ফলো থ্রো ও ওভারল্যাপিং
সাবজেক্টের সাথে যখন কোন অবজেক্ট সাবজেক্টের মোশন অনুযায়ী ফলো করতে থাকে তখন সেটা হচ্ছে ফলো থ্রো প্রিন্সিপাল আর সাবজেক্ট এর একশন শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যখন অবজেক্টটি সাবজেক্টকে ওভারল্যাপ করে সেটেল ডাউন হয় তখন সেটাকে ওভারল্যাপিং বলে।
স্লো-ইন ও স্লো-আউট
এনিমেশনে কোন একশন শুরু হয় স্লোলি ও শেষ হওয়ার সময়ও স্লোলি শেষ হওয়াটা হচ্ছে স্লো-ইন ও স্লো-আউট।
আর্ক
এনিমেশন হওয়ার সময় যখন একশনের পাথ ফলো হয় সেটাই হচ্ছে আর্ক প্রিন্সিপাল।
সেকেন্ডারি একশন
এনিমেশনের মূল একশনকে সাপোর্ট করে করে যখন আরেকটি একশন আরো ডায়মেনশন দেয় তখন সেটাকে সেকেন্ডারি একশন বলে।
টাইমিং
একশনের দুটি পোজের মধ্যে কত ফ্রেম ধরে এনিমেশনটি করা হচ্ছে সেটা রিপ্রেজেন্ট করে টাইমিং প্রিন্সিপাল। যদি মধ্যকার পোজের মধ্যে বেশী ফ্রেম দেওয়া হয় তাহলে একশনটি স্লো হবে, আর যদি কম ফ্রেম দেওয়া হয় তাহলে একশনটি ফার্স্ট হবে। সাধারণত ২৪ ফ্রেম ধরে প্রতি সেকেন্ডের জন্য বেশীরভাগ এনিমেশন করা হয়ে থাকে। এখন যদি প্রতি ফ্রেমেই এনিমেশন করা হয় তখন সেটাকে বলে 'ড্রয়িং অন ওয়ান'স' আর প্রতি দুই ফ্রেমে করলে সেটাকে বলে 'ড্রয়িং অন টু'স', থ্রি ফ্রেমে করলে বলে 'ড্রয়িং অন থ্রি'স'।
এক্সাজারেশন
এনিমেশনে খুব বেশী রিয়েলিস্টিক না রেখে একটু বেশী বেশী রাখলে ভালো লাগে। যেমন যে দুঃখী কেউ থাকলে আরো দুঃখী দেখানো, খুশী হলে আরো অনেক বেশী খুশী।
সলিড ড্রয়িং
ভলিয়ম, ওয়েট ও ব্যালেন্স - এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখে এনিমেশনের জন্য ড্রয়িং করাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সব এঙ্গেল থেকে যেন এনিমেশন করা যায় এই ব্যাপারটা মাথায় রেখে ক্যারেক্টার বা অবজেক্ট ডিজাইন করলে ভিন্ন ভিন্ন পার্সপেক্টটিভ থেকে এনিমেশন ফুটিয়ে তোলা যায়।
অ্যাপিল
অ্যাপিল মানে শুধুমাত্র সুন্দর ক্যারেক্টার, এনভার্নমেন্ট ডিজাইন করা না, বরং ইন্টারেস্টিং করে তোলা। যেমন ভিন্ন ভিন্ন ক্যারেক্টারকে ভিন্ন ভিন্ন সেইপ দেওয়া। সাথে খেয়াল রাখতে হবে ক্যারেক্টার যেন সিম্পল থাকে, খুব বেশী কমপ্লেক্সিটি অডিয়েন্সকে তৃপ্তি দেয় না।